সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির যুক্তিতর্ক আবারও পিছিয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য ২৮ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ছিল। তবে নির্ধারিত আদালতের বিচারক ছুটিতে থাকায় এদিন শুনানি হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ের পর্যায় থেকে আবার যুক্তিতর্ক
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। ওইদিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি আবার যুক্তিতর্কের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেন।
এরপর নতুন করে যুক্তিতর্কের তারিখ দেওয়া হয়। মঙ্গলবারও শুনানি না হওয়ায় সেটি আবার পিছিয়ে গেল।
মামলার আট আসামি
সোহেল রানা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল মোত্তালিব।
মঙ্গলবার সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলায় তিনি জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রানা প্লাজা ধসে প্রাণহানি
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত হন। আহত হন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
ভবন ধসের পর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে তদন্তে ভবন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।
যেসব অনিয়মের অভিযোগ
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে ভবনটির আরও চারতলা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদন পাওয়া ওই ভবনে পরে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতিও দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ২১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। পরে আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কারাগারে সোহেল রানা
রানা প্লাজা ধসের পাঁচ দিন পর ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এখন আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার অপেক্ষা। ২৮ অক্টোবর শুনানি শুরু হলে মামলাটি আবারও পরবর্তী ধাপে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।

