দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে গাজী নজরুলের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপসের শর্তে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।
ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের মৃত্যু
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর বয়স হয়েছিল ১৯ বছর।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা এবং মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনের একই ভবনে থাকতেন।
মরিয়ম বিভিন্ন সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিয়ের পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবাকে ফোন করে ডাকা হয়
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন।
সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বাসায় অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। পরে একটি কক্ষের ভেতরে তাঁর মেয়েকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করা হয়। সেখানে বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক
এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে বলে দলটি জানায়। গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।
আরেক মামলায় গাজী নজরুলের জামিন
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুলের গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
ওই মামলায় হাইকোর্ট গত ১০ আগস্ট গাজী নজরুলকে আট সপ্তাহের জামিন দেন।
মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এবার সেই ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় করা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশও মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।

