ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অর্থ আত্মসাতের বহুল আলোচিত মামলায় কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের জামিন আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্টের চেম্বার আদালত। ফলে ওই দিন পর্যন্ত তাঁর জামিন কার্যকর থাকছে না।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম ভূইয়ার পক্ষ থেকে নজরুল ইসলামের জামিন আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই আদেশ এল।
মামলাটির সূচনা ২০২২ সালে। ওই বছর ঢাকার শাহবাগ থানায় ফারইস্টের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। এরপর থেকে তাঁর গ্রেপ্তার, রিমান্ড, কারাবাস, জামিন এবং আবার কারাগারে যাওয়ার মতো ঘটনায় মামলাটি বহুবার নতুন মোড় নিয়েছে। সর্বশেষ হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর মামলাটি আবার আলোচনায় আসে।
তদন্তের অগ্রগতিও উল্লেখযোগ্য। তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তাতে ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নজরুল ইসলামসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার ঘটনাপ্রবাহ দেখলে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথম গ্রেপ্তার হন নজরুল ইসলাম। প্রায় তিন মাস কারাবাসের পর ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর একই বছরের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান এবং ১৩ আগস্ট স্থায়ী জামিন লাভ করেন।
জামিন স্থগিতের আদেশ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। এটি মূলত জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। ১৬ নভেম্বর আদালত আবেদনটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে নজরুল ইসলামের পরবর্তী অবস্থা। সেদিন জামিন বহাল থাকে, নাকি বাতিল হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং নজরুল ইসলামের পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

