ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের পথ খুলে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এ আবেদন দাখিল করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের দাবি করা এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, ওই রায় কার্যকর হবে কি না।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১০ সেপ্টেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আগে জারি করা রুল খারিজ করে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত দেন। শুনানিতে ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। পরে গত ১২ অক্টোবর বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রায় খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ ওই অর্থ আদায়ের আইনগত সুযোগ এনবিআরের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে আপিল দায়ের হওয়ায় বিষয়টি এখন আবার উচ্চ আদালতে গড়াল।
মামলার পটভূমি বেশ দীর্ঘ। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের জন্য পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করে এনবিআর। এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত তখন রুল জারি করেন। সেই রুলই এবার খারিজ হয়েছে।
এর মধ্যে মামলাটি একবার ভিন্ন মোড় নিয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার আগের রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠায়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য আসে, যারা সর্বশেষ রায় দিয়েছেন। অর্থাৎ একই মামলায় রায় দেওয়া, প্রত্যাহার এবং আবার নতুন রায়, এই ধারাবাহিকতা মামলাটিকে জটিল করেছে।
আপিল বিভাগে এখন প্রথম ধাপে দেখা হবে, হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হবে কি না এবং আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না। স্থগিতাদেশ মিললে এনবিআর আপাতত অর্থ আদায়ে যেতে পারবে না। না মিললে আদায় প্রক্রিয়া শুরুর সুযোগ থাকবে। তবে আবেদনে কী কী যুক্তি তোলা হয়েছে বা স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যে কিছু জানা যায়নি।
এখন নজর থাকবে আপিল বিভাগ কবে শুনানির দিন ধার্য করে এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে কী আদেশ দেয়, তার দিকে। একই সঙ্গে এনবিআর এই সময়ের মধ্যে অর্থ আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে থাকবে।

