স্বর্ণ ও হীরার অবৈধ বাণিজ্য এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও হীরার লেনদেনের ক্ষেত্রে বৈধ উৎসের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি।
মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে সিআইডির আর্থিক অপরাধ বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ ঢাকার গুলশান থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কথিত অনিয়মগুলো ঘটে।
সিআইডির তদন্তে ব্যাংক হিসাব, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে ঋণপত্রের মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্বর্ণের বার, স্বর্ণালংকার, হীরা এবং অন্যান্য অলংকার বৈধভাবে আমদানি করেছিল।
তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও হীরা কেনা, বিনিময় কিংবা রূপান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এসব স্বর্ণ ও হীরার বৈধ উৎস সম্পর্কে প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে এসব মূল্যবান সামগ্রী কার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধ স্বর্ণ ও হীরার লেনদেন পরিচালনা করেছেন। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেছে সিআইডি।
তদন্তের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা স্বর্ণ ও হীরার উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের সঙ্গে এসব লেনদেনের সম্পর্ক। রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসব বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের চেষ্টা করতে পারেন।
তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী বলা যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্তমানে এসআরবি নামে পরিচিত, গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর আরও কয়েকটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এসব মামলায় তাঁর আইনজীবীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। পরে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এবার স্বর্ণ ও হীরার কথিত অবৈধ লেনদেন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি। আবেদনটির শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

