বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এফএম অ্যাসোসিয়েটসের পার্টনার তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ বৃহস্পতিবার নিজে আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিটে পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে যেসব দাবি
রিটে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা দিতে বিবাদীদের কথিত ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে এই ব্যর্থতা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসংগত কেন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁদের আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।
বিশেষ করে সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে নির্দেশনা
রিটে প্রস্তাবিত নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের মামলাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা। পাশাপাশি আপিল বা ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা চিহ্নিত করা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সৌদি আরবের আলোচিত ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কী কী নথি ছিল এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
কেন সক্রিয় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে
রিটে বলা হয়েছে, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের অনেকের পক্ষে পরিবারের সদস্যদের পক্ষে আবেদন করা সম্ভব নাও হতে পারে। ভাষাগত সমস্যা এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সীমাবদ্ধতাও থাকতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকার যেসব কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, রিটকারী তা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি সহায়তা যথাসময়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা সরকারি নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, মামলার তথ্য এবং কনস্যুলার সহায়তার প্রকৃত অবস্থা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
রিটকারী জানিয়েছেন, আবেদনে চাওয়া প্রতিকারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা আদালতের বিরুদ্ধে কোনো আদেশ চাওয়া হয়নি।

