বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলাটি করেছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর তাঁর বাবা এ মামলা করলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তরা বিভাগ) মো. রেজাউল করিম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে এবং অপরাধ আড়াল করতে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে নিচে নামেন তাহসিফ। এরপর আর ফেরেননি। তাঁর বাবা জানান, মা বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীতে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগের একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা যায়। ওই যুবকের সঙ্গে তাঁকে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই যুবককে তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না জানান, পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে পিবিআইয়ের কাছ থেকে হেফাজতে নিয়েছে নৌ-পুলিশ। উপকমিশনার রেজাউল করিম জানান, আজই তাঁকে আদালতে হাজির করা হতে পারে। দীপের বক্তব্য নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে সংশয় আছে। তিনি দাবি করেছেন, ইউনিফর্মধারীদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। এই বক্তব্যে পিবিআই আশ্বস্ত হতে পারছে না বলে জানা গেছে।
মামলা অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হওয়ায় এখনো কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ এবং দীপের বক্তব্যের সত্যতা, সবই তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য মিললে ঘটনার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

