একই জামিন আবেদন বিভিন্ন বেঞ্চে করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে আদেশ নেওয়ার চেষ্টা ন্যায়বিচারের মূলনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় জামিনসংক্রান্ত একাধিক আবেদন নিয়ে লিখিত আদেশে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চের লিখিত আদেশের অনুলিপি শনিবার (৭ নভেম্বর) পাওয়া গেছে।
আদেশে বলা হয়, একই আসামিদের পক্ষে একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেঞ্চে একাধিক আবেদন করা এবং অন্য বেঞ্চে আবেদন বিচারাধীন থাকার তথ্য গোপন করা হলে তা সংশ্লিষ্টদের সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। আদালতের কাছে প্রতিকার চাইতে হলে সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা বিচারপ্রার্থীদের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন বিচারকেরা।
এ ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন করা এবং অন্য আবেদন বিচারাধীন থাকার তথ্য গোপন করে জামিনের আদেশ নেওয়ার অভিযোগে কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুলের জবাব দিতে ১০ দিন সময় পেয়েছেন পাঁচ আসামি, তিনটি জামিন আবেদনের হলফকারী এবং তিন আইনজীবী। আসামিরা হলেন মিল্লাত হোসেন, লিপি আক্তার, মো. শরীফ, আনোয়ার হোসেন টনিক ও আরিফুর রহমান জনি। হলফকারীরা হলেন মোহাম্মদ সেলিম রেজা, মো. মোশাররফ হোসেন ও রিপন আহমেদ। আইনজীবীরা হলেন আন্না খাতুন, মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন ও এস এম আবদুল বাতেন শাকিল।
রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মামলায় নতুন কোনো জামিন আবেদন গ্রহণ না করতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অধীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৫ দিনের জন্য তাঁদের হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকেও বিরত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া জামিনের আদেশ সংশ্লিষ্ট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো থেকে আদালতের ক্রিমিনাল সেকশনকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার একই ঘটনায় ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন হাইকোর্ট। তাঁদের মধ্যে পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও তিন মামলার তদবিরকারী রয়েছেন।

