গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় হতাহতদের ন্যায়বিচারের দাবিতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় অসামঞ্জস্যতা এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অনেক মামলাতেই আসামির সঙ্গে বাদীর কোনো পূর্ব পরিচয় নেই, এমনকি নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কিছু মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরীহ মানুষদের ফাঁসানো হচ্ছে। যা মানবাধিকারের পরিপন্থী।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী জেড আই খান পান্নাকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি করা হয়েছে, যদিও তিনি তখন আইনি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগে ছিলেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোতালিবের ঘটনায় নিহতের বাবা ও অপর এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় বাদীর সঙ্গে ভিকটিম পরিবারের কোনো পূর্ব পরিচয় নেই বলেও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
একই বিবৃতিতে জানানো হয়, “সম্প্রতি একটি মামলায় অভিনেতা ইরেশ জাকেরসহ প্রায় ২৫ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে- যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের গায়েবি মামলা বর্তমানে আবার দেখা যাচ্ছে।”
আসক মনে করে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় যেসব ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, তাদের নাম তদন্ত করে অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচার অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেটা হতে হবে সুষ্ঠু তদন্ত, আলামত ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে; উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নয়।

