প্রযুক্তিনির্ভর বিচার ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তার বিচারক ও আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকা সম্ভাব্য জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ন্ত্রণে বাধা তৈরি করছে কি না—এ বিষয়টি এখন গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখছে। কারণ এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মৌলিক প্রশ্ন এবং নাগরিকদের আইনগত অধিকারের ভবিষ্যৎ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সীমাবদ্ধতা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাদী ও বিবাদী উভয়ের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমান সময়ে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ক্লড, ডিপসিকের মতো উৎপাদনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। এসব প্রযুক্তি মূলত বৃহৎ ভাষা মডেল নামে পরিচিত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
শুধু সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, এখন বিভিন্ন বিশেষায়িত বৃহৎ ভাষা মডেলভিত্তিক সরঞ্জামও বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা, প্রকৌশল, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সামরিক বাহিনীসহ নানা খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি অনেক দেশে সরকারি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এসব প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
দাপ্তরিক কাজের সুবিধা ও গতি বাড়াতে এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার যখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বিশ্বের বহু দেশের বিচার বিভাগও পিছিয়ে নেই। আদালতের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এসব ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
ফলে আইনজীবী, নিজে নিজে মামলা পরিচালনাকারী মামলাকারী, বিচারক এবং আদালতের কর্মীরা এখন বিভিন্ন বৃহৎ ভাষা মডেলভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। এতে একদিকে যেমন কাজের গতি বাড়ছে, অন্যদিকে এর ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা বিচার ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করলেও এর প্রভাব, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি।
- রাইসুল সৌরভ: আয়ারল্যান্ডের গলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারিক সিদ্ধান্তে এআইয়ের ব্যবহার বিষয়ক ডক্টরাল গবেষক; সহযোগী অধ্যাপক (শিক্ষা ছুটিতে), আইন বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ); আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; আইন ও বিচার বিশ্লেষক।

