ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। কারণ তাঁকে শপথ নিতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের ওপর শুনানি হয় দুই দফায়। প্রথম দফায় মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলে। পরে আদেশের জন্য বুধবার দুপুরে পুনরায় সময় নির্ধারণ করা হলেও তা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রিট খারিজ হওয়ায় ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। পরদিন, ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে এবং তাপস শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ওই নির্বাচনে তাপস পেয়েছিলেন প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছিলেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিলের দাবিতে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে মামলা করেন ইশরাক।
এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এক যুগান্তকারী রায়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফলাফল বাতিল করেন এবং বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে রায়ের ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে।
এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ইশরাক হোসেনের মেয়র পদে আসীন হওয়ার পথে আর কোনো প্রক্রিয়াগত বাধা না থাকলেও, তাঁর শপথ গ্রহণে আইনি জটিলতা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশে সেই জটিলতা দূর হলো। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণই বাকি।

