রাজধানীর মগবাজারে চাপাতি দিয়ে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন পেশাদার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ভিডিওর সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোবাইল, মানিব্যাগ ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুইজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে হঠাৎ শিক্ষার্থীকে হামলা করে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মালপত্র ছিনিয়ে নেয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন:
- সোহেল
- জীবন ওরফে হৃদয়
- শামীম
তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে, বলে জানিয়েছে তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
- ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ছিনতাই হওয়া ব্যাগ ও টাকা
- ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি
- একটি মোটরসাইকেল, যা ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল
পুলিশ ধারণা করছে, তারা একটি পেশাদার ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য, যারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এই ধরনের সশস্ত্র ছিনতাই চালিয়ে থাকে।
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।”
তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান, এবং তাদের মাধ্যমে আরও ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
নাগরিকরা বলছেন, দিনের আলোতে এভাবে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মাধ্যমে অনেকেই পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও, একইসঙ্গে ছিনতাই প্রতিরোধে টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার দাবি জানিয়েছেন।
মগবাজারে শিক্ষার্থীর ওপর সশস্ত্র হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সফলতা হলেও, রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে নগরবাসীকে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের পেছনে আরও কারা রয়েছে, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

