বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানভীর এবং কো চেয়ারম্যান সাদাত সোবহানের বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে দুদক এ বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পদ ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মোহাম্মদ মোমেন আরও বলেন, যদি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য উভয় দেশের আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়, তাহলে এসব সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি আরও জানান, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমামের সম্পদ জব্দের বিষয়েও অনুরূপ চিঠি পাঠানো হয়েছে যুক্তরাজ্যকে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে দুদক চেয়ারম্যান টিউলিপ সিদ্দিক প্রসঙ্গে বলেন, ‘টিউলিপ সিদ্দিক যতই বলুক তিনি ব্রিটিশ নাগরিক, আমাদের নথিপত্র অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। সে অনুযায়ী আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে তাঁর মন্ত্রিত্ব হারাল কেন? তিনি নিজেই পদত্যাগ করলেন কেন? আবার তাঁর আইনজীবী আমাদের কাছে কেন চিঠি পাঠালেন?
টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির প্রাক্তন ট্রেজারি মিনিস্টার। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে তিনি অবৈধভাবে জমি গ্রহণ করেছেন এমন অভিযোগ এনেছে দুদক। যদিও টিউলিপ সিদ্দিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা অপপ্রচার মাত্র।
এই পুরো প্রক্রিয়া ও তদন্ত নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন এবং কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজরে এসেছে। দুদক জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ প্রমাণসহ সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য সচেষ্ট থাকবে।

