আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জিল্লুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডিসকো সাত্তার ছিলেন মানিক সাহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং ২০১৬ সালে ঘোষিত রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন। আব্দুস সাত্তার বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরুর ছেলে। সাংবাদিক মানিক সাহাকে হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় ২০ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন জনপ্রিয় সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা। এ ঘটনা দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিক সমাজে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর, ১৭ জানুয়ারি খুলনা সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রণজিৎ কুমার দাস বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান তৎকালীন ওসি মোশাররফ হোসেন। তিনি একই বছরের ২০ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট দাখিলের পর থেকেই পলাতক ছিলেন ডিসকো সাত্তার। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৯ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন: সুমন ওরফে নুরুজ্জামান, বুলবুল ওরফে বুলু, আকরাম হোসেন ওরফে বোমা আকরাম, আলী আকবর সিকদার ওরফে শাওন, ছাত্তার ওরফে ডিসকো সাত্তার, বেল্লাল, মিঠুন ওরফে মিটুল, সাকা ওরফে শওকাত হোসেন এবং সরো ওরফে সরোয়ার হোসেন। মামলায় আরও দুই আসামি হাই ইসলাম ও কচি ওরফে ওমর ফারুককে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মাজাহারুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরের পর আদালতে উপস্থিত হন ডিসকো সাত্তার। ওকালতনামায় তিনি দাবি করেন, জীবন ও জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন খুলনার বাইরে থাকায় মামলার রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি এবং রায়ের বিষয়টিও তার জানা ছিল না।
দীর্ঘ সময় পর হলেও এক পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণ সাংবাদিক সমাজ ও বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাকিদের মধ্যে কেউ পলাতক থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হয় কি না।

