শেয়ার বাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলায় ক্রিকেট তারকা সাকিব ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাসহ আরও ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন। তিনি জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাকিব আল হাসানসহ আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে শেয়ার বাজারে কারসাজি করে মোট ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সাকিব আল হাসান একসময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এখন সেই দুদকের মামলার প্রধান আসামি হতে হলো তাকে। পুঁজিবাজারের নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগেই আজ তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেয়ার কারসাজির অভিযোগে বিএসইসি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাকিব।
দুদকের দায়ের করা মামলার বাকি ১৪ আসামি হলেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের ওরফে হিরু, কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির এবং তানভির নিজাম।
দুদক সূত্র বলছে, এই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুঁজিবাজারের মতো সংবেদনশীল একটি খাতে কারসাজি ও আত্মসাতের ঘটনা দেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন আরও বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

