দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অবরুদ্ধ ও ক্রোক করেছে। কমিশনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানায়, এই সময়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মোট ২ হাজার ৭১১ কোটি ২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) এবং ১৯০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক (অ্যাটাচ) করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের তালিকা
দেশের অভ্যন্তরে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ১৬৬ কোটি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬১ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে:
- ৪৫১.০৪৮ একর ও ১৪৫.০১৪ কাঠা জমি, আনুমানিক মূল্য ৮৪ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৯ টাকা
- ৩৯টি বাড়ি ও ভবন, মূল্য ৩৫ কোটি ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৬ টাকা
- ৫২টি ফ্ল্যাট, মূল্য ২২ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার ৫৫৮ টাকা
- ১০টি প্লট, মূল্য ১২ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৫ টাকা
- ১টি মার্কেট, মূল্য ৪২ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ টাকা
- ৫টি দোকান, মূল্য ৮৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৭ টাকা
- ১৬টি গাড়ি, মূল্য ৬ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ টাকা
- ৪টি কমার্শিয়াল স্পেস, মূল্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ২২ হাজার ৮৪৪ টাকা
বিদেশে ক্রোক করা দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের বিবরণ
অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ৭২৬টি ব্যাংক হিসাব, মোট অর্থ ২ হাজার ৫১২ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা
- ৭১টি সঞ্চয়পত্র ও বন্ড, মূল্য ৯৪ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার ১৪ টাকা
- ৮ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৮৭০টি শেয়ার ও দুটি কোম্পানির শেয়ার, মোট মূল্য ১০১ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৮৯৮ টাকা
- তিনটি লকার, যার মধ্যে একটি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭ লাখ টাকা, বাকি দুটি খালি
অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট অবরুদ্ধ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৭১১ কোটি ২ লাখ ৫ হাজার ৯১ টাকা।
এছাড়া, বিদেশে থাকা ১২টি কোম্পানির অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে ২৭ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এসব সম্পদ অবরুদ্ধ ও ক্রোকে মোট ৯৬টি আদালতের আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি আদেশে স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ৫৪টি আদেশে অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়।

