সরকার সম্প্রতি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শহীদ ও আহতদের পরিবারকে আইনি স্বীকৃতি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিংবা তথ্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র দাখিল করে নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য বা আহত যোদ্ধা হিসেবে দাবি করে সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা নেওয়া অর্থের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই অপরাধ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলবে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী।
এই অধ্যাদেশের আওতায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ নামে একটি নতুন সরকারি দপ্তর স্থাপনের কথা বলা হয়েছে, যার দায়িত্বে থাকবে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলো তদারকি করা।
অধ্যাদেশে শহীদ ও আহতদের শ্রেণিবিন্যাসও করা হয়েছে। যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের বলা হয়েছে ‘জুলাই শহীদ’, আর আহতদের দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ উপাধি। আহতদের মধ্যেও রয়েছে তিনটি শ্রেণি—অতি গুরুতর আহত, গুরুতর আহত এবং সাধারণ আহত।
সরকারের মতে, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একদিকে যেমন শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম আইনি ভিত্তি পাবে, অন্যদিকে মিথ্যা দাবি করে অনৈতিকভাবে সরকারি সহায়তা নেওয়ার প্রবণতা রোধ করা যাবে।
এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যা আন্দোলনে আত্মদানকারী ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু যাচাই-বাছাই, স্বচ্ছতা ও যথাযথ নজরদারি।
এই আইন শহীদ পরিবার ও আন্দোলনরত যোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

