কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে ইয়াবা পাচারের সময় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাফ নদীতে মাছ ধরার ছদ্মবেশে তারা মাদক পাচারের চেষ্টা করছিল। সোমবার রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করে।
২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নদীপথে মিয়ানমার থেকে কিছু ব্যক্তি মাছ ধরার অভিনয় করে মাদক পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ তথ্য পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে কৌশলগতভাবে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়।
রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নদীতে একটি সন্দেহভাজন নৌকা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। তারা দ্রুত নৌকাটিকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে তা নাফ নদীর বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে আটক করতে সক্ষম হন। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাটাতনের নিচে বিশেষভাবে লুকানো জালের ভেতর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন মিয়ানমারের মংডুর ডেইলপাড়ার বাসিন্দা মো. জুবায়ের (২০) ও নুরুল আমিন (২২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইয়াবা পাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, আটককৃতরা এসব ইয়াবা বাংলাদেশি দোসরদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছিল। পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি সূত্র বলছে, ইয়াবা পাচারের ধরন ও পদ্ধতিতে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বারবারই তা ব্যর্থ হচ্ছে।

