অভিযোগ ও আদালত অবমাননার মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল, যা বৃহস্পতিবার স্বপ্রণোদিত হয়ে আসে।
গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল একটি আদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাকিল আলম বুলবুলকে হাজির হতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে তারা হাজির না হওয়ায় বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে জানান কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামিম। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধিমালা ৪১ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঘটনাচক্রের শুরু ঘটে গত ৩০ এপ্রিল, যখন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও শাকিল আলম বুলবুলের বিরুদ্ধে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল ১৫ মে তাদের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা ওই সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৫ মে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিরা হাজির না হওয়ায় দুটি জাতীয় পত্রিকায় তাদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ মামলার পটভূমিতে একটি অডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে শেখ হাসিনার নামে বলা হয়, ‘আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই কথোপকথনের ফরেনসিক পরীক্ষা করে অডিওটি শেখ হাসিনারই বলে প্রমাণিত করে। এ ঘটনা ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার আবেদন দায়েরের কারণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এভাবে মামলার জটিলতায় নিয়োগ পাওয়া এ ওয়াই মশিউজ্জামান অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ট্রাইব্যুনালের সহযোগিতা করবেন এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়নিষ্ঠা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

