তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইহুদি ধর্মের নবী হযরত মুসা (আ.)-কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন আঁকার অভিযোগে চারজন কার্টুনিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (১ জুলাই) তাদের আটক করা হয়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্যাটায়ার সাময়িকী ‘লেমান’-এর একটি সংখ্যায় একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হয়। ছবিটিতে দেখা যায়, এক মুসলিম এবং এক ইহুদি ব্যক্তি হাতে হাত মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পায়ের নিচ থেকে বোমা পড়ছে একের পর এক। দুজনের পিঠে রয়েছে পাখা এবং মাথার ওপর দেবদূতের মতো আলোকচক্র। মুসলিম ব্যক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মোহাম্মেদ’, যা অনেকেই হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নির্দেশ করে আঁকা হয়েছে বলে মনে করেন।
কার্টুনটি প্রকাশের পরপরই এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, এটি ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইহুদি ধর্মের নবী হযরত মুসা (আ.)-কে সরাসরি অবমাননা করে আঁকা হয়েছে। অন্যদিকে, সাময়িকীটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় পর্যটন এলাকায় শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। তারা “আল্লাহ মহান” স্লোগান দেন এবং ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী কার্টুনিস্ট ও প্রকাশকদের বিচার দাবি করেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া এ বিষয়ে বলেন, “এই কার্টুন বাকস্বাধীনতা নয় বরং তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চরম অপব্যবহার। যেসব ব্যক্তি এই ব্যঙ্গচিত্র আঁকায় ও প্রকাশে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মুখপাত্র ফাহরেত্তিন আলতুন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই কার্টুন আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ওপর একটি ঘৃণ্য আঘাত।”
তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে ‘লেমান’ সাময়িকীর পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দেওয়া হয়। তারা জানায়, “আমরা মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-কে ব্যঙ্গ করিনি। বরং গাজায় মুসলিম নিধনের সময় মুসলিম বিশ্বের নীরবতা এবং কিছু মুসলিম নেতৃত্বের সহযোগিতাকে ব্যঙ্গ করেছি। ওই কার্টুনে যাকে ‘মোহাম্মেদ’ বলা হয়েছে, তিনি কোনো নবী নন, বরং ক্ষমতাবান সেইসব মুসলিম নেতার প্রতীক, যাদের সহযোগিতায় লাখ লাখ মুসলিম আজ নিপীড়নের শিকার।”
তারা আরও বলে, “যদি আমাদের কার্টুনে কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক সমালোচনা, ধর্মীয় অবমাননা নয়।”
এই ঘটনা নিয়ে তুরস্কজুড়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুভূতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

