ইরানে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রোববারের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কার্যকর সংলাপ আয়োজন সম্ভব হতে পারে।
শনিবার (২০ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি জটিল হলেও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে ওয়াশিংটন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’— এমন দাবিকে তিনি গুজব বলে উল্লেখ করেন।
ভ্যান্স বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংঘাতের মূল কারণগুলো এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তাই সম্ভাব্য সংলাপ সফল হলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের নজর সুইজারল্যান্ডে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। আগামী কয়েক দিনের আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে ইরান সংকট কোন পথে এগোবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কতটা বাস্তব রূপ পাবে।

