হাইকোর্ট বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৪ জানুয়ারির মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বয়স চুরি ও ভুয়া সনদ দাখিল করে চাকরি নিয়েছেন।
বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মোহাম্মদ হাবিব বলেন, আজকের শুনানিতে দেখা যায়, মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের শুনানি হয়। দুদক ও বিপিসিকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ তা দাখিল না হওয়ায় হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ১৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্র সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সোভারেনিটি’-এর আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
এর আগে, ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ দুদককে আজাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশনা দেন। রিট আবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ৩৩ বছর নির্ধারিত ছিল। এছাড়া চাকরিতে আবেদনের সময় ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করা হয়, যা পরে অডিটে ধরা পড়ে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আজাদ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত হন। ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানির মোংলা ইন্সটলেশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপক এ কে এম জাহিদ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে দাখিল করেন, কিন্তু তা যথাযথভাবে তদন্ত হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, গত অর্থবছরে বিপিসির মাধ্যমে তেল আমদানিতে ডলারের কারসাজিতে ৩৫৬ কোটি ৩ লাখ টাকা হেরফের হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে মোরশেদ হোসাইন আজাদের সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়ে এখনও তদন্ত শুরু হয়নি। রিটে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আজাদকে চাকরিচ্যুত করার এবং প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

