মানহানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর স্থায়ী জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজা। রোববার সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে আমির হামজা আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন দাখিল করলে শুনানি শেষে বিচারক স্থায়ী জামিনের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের একাধিক আইনজীবী।
মামলার নথি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ২ এপ্রিল মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর কর্নেল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমির হামজা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। পরে সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
মামলা দায়েরের পর আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সমন জারি করেন। তবে নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করতে আরও কয়েকটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের মাধ্যমে মন্ত্রীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণেই মানহানির অভিযোগে আইনি প্রতিকার চাওয়া হয়েছিল।
রোববার আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আমির হামজা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিলেন। আদালতের জামিন আদেশের ফলে তিনি আপাতত মুক্ত থাকলেও মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলবে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে আলোচিত এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও বিচারিক অগ্রগতি নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

