সরকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সহকারী জজদের সিনিয়র সিভিল জজের ক্ষমতা প্রদান করেছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনার অধিকারও দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (৯ মার্চ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১) এ. এফ. এম. গোলজার রহমান। প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, সিভিল জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার ১০৮ জন বিচারিক কর্মকর্তার ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়েছে।
সহকারী জজদের সিনিয়র সিভিল জজের ক্ষমতা
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সহকারী জজদের The Civil Courts Act, 1887-এর Section 36 অনুযায়ী সিনিয়র সিভিল জজের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি The Small Cause Courts Act, 1887 অনুযায়ী ক্ষুদ্র দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতাও তারা প্রাপ্ত হয়েছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যেসব জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সিভিল জজ হিসেবে বদলি করা হবে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ক্ষমতা প্রযোজ্য হবে।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা
নির্দিষ্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 190 (2) ও Section 190 (3) অনুযায়ী Section 190 (1)-এর (a), (b) ও (c) ধারা অনুযায়ী অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া Section 164 ও Section 167-এর অধীন ক্ষমতা এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও তারা পেয়েছেন। পাশাপাশি Schedule IV অনুযায়ী Section 260-এর অধীনে সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনার অধিকারও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সিভিল জজকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি করা হলে, তাকে এই ক্ষমতাও প্রদান করা হবে বলে গণ্য হবে।
পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা প্রযোজ্য নয়
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা পাবেন না। এছাড়া তারা শুধুমাত্র বিচারিক কাজে এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন; প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কাজে সিনিয়র পদবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

