Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » নিরাপত্তার বেষ্টনী ঘেরা ক্যাম্পাস—তবু কেন ছায়া পড়ছে ভয় ও অনিরাপত্তার?
    অপরাধ

    নিরাপত্তার বেষ্টনী ঘেরা ক্যাম্পাস—তবু কেন ছায়া পড়ছে ভয় ও অনিরাপত্তার?

    মনিরুজ্জামানএপ্রিল 5, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানীর অন্যতম নিরাপদ হওয়ার কথা এই ক্যাম্পাস। বাস্তবে তাই খাতায়-কলমে, কারণ দুই পাশে রয়েছে শাহবাগ ও নিউমার্কেট থানা, প্রবেশমুখে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রোক্টরিয়াল টিমের টহল।

    তবু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। গত এক বছরে ক্যাম্পাস ও আশপাশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শহীদ মিনার এলাকায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড এসব প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে—কেন এত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিনে দিনে অনিরাপদ হয়ে উঠছে? প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নাকি সমন্বয়ের অভাব—ঠিক কোথায় আটকে আছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা?

    সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনাবলি:

    ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য মোটরসাইকেলের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে এক ঝগড়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা, ছিনতাই, চুরি ও সহিংসতার হটস্পট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব জায়গায় নিয়মিত অপরাধের ঘটনা উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, এমন অনিরাপদ পরিবেশে তারা স্বাধীনভাবে চলাচল ও পড়াশোনা করতে ভয় পান। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই চ্যালেঞ্জটি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই পরিস্থিতি প্রশ্ন তুলেছে—কীভাবে এবং কেন এত নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থার পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাধীদের জন্য একটি ‘অভয়ারণ্য’ হয়ে উঠছে।

    ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে, ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় একটি নতুন নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। রাকিবুল ইসলাম নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাত ও গুলিতে হত্যা করা হয়।

    শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, রাত সোয়া নয়টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। হঠাৎ ৩–৪ জন যুবক এসে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং মাথায় গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত রাকিবকে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের আলোকে বোঝা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা ছিনতাই, চুরি ও সহিংসতার হটস্পট হিসেবে পরিচিত।

    শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সূর্যাস্তের পর এই এলাকায় বহিরাগতদের চলাচল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে মাদক-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলে, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

    এই অবস্থার মধ্যে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কীভাবে এবং কেন ক্যাম্পাসে এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছে না। প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা, সীমিত পুলিশ উপস্থিতি বা আরও গভীর চ্যালেঞ্জ—সবই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: ঐতিহ্যের ছায়ায় মাদক কেন্দ্র:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন সাধারণ মানুষের কাছে মাদকসেবী ও কারবারিদের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নেতার মাজার, রমনা কালীমন্দির গেট এবং মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজার ব্যবসা চলে। এমনকি মুক্তমঞ্চের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গাঁজার তীব্র গন্ধে সাধারণ পথচারীরাও নাভিশ্বাস বোধ করেন।

    স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশন থেকে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে চমকপ্রদ চিত্র। কয়েকজন কিশোরী জামার ভেতর থেকে গাঁজার পুড়িয়া বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদক বিক্রির এই চক্রে শিশুদের ব্যবহার উদ্বেগজনক।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “প্রশাসন যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই ধরনের ঘটনা থামবে না। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখা এখন আরও জরুরি।”

    মাদক ব্যবসায় জড়িত কিশোরীরা জানায়, আগে তারা টিএসসিতে ফুল বিক্রি করত। সেখানে বসার অনুমতি না থাকায় তারা ‘পেটের দায়ে’ ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়িয়েছে। তারা অনুরোধ করছে, উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকলে তারা এই কাজ ছেড়ে দিতে রাজি। তবে কারা তাদের নেপথ্যে নিয়ন্ত্রণ করছে, সে বিষয়ে তারা মুখ খোলে না। এক এতিম কিশোর জিসান জানান, উদ্যানের ভেতরই তার বসবাস এবং গাঁজা বিক্রি করে তিনি প্রতিদিন ৫০০ টাকা আয় করেন।

    তবে মাদক নির্মূলে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম এর নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশে কয়েক দফা বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং কিছু মাদকসেবীকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা, যা প্রশাসনকে আরও সতর্ক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।

    অন্ধকার নামলেই সক্রিয় ছিনতাইকারীরা:

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শুধু মাদক ব্যবসার জন্য নয়, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের জন্যও এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে উদ্যান ও আশপাশের রাস্তাগুলোতে ছিনতাইকারীদের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। গত ২৫ জানুয়ারি, উদ্যানের রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে কয়েকজন তরুণ স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছুরি দেখিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

    এর আগে ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি, একই উদ্যানের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করার ঘটনায় ঢাকায় সতর্কতা তৈরি হয়। সেই ঘটনার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থী আজহারকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্যাম্পাসের আশপাশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, রাতের অন্ধকারে এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কোথায়?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, “ইদানীং প্রতি রাতে এমন সময় শহীদ মিনারে আমি রুটি খেতে যাই। রোববার নওগাঁ চলে আসায় যাইনি। যদি টার্গেট মিস হত, গুলিটা আমার মাথায়ও লাগতে পারত। এখন কি দেশের সবাইকে মিলিটারি গ্রেড হেলমেট পরে ঘোরাফেরা করতে হবে?”

    সাম্প্রতিক সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেট বন্ধ করা হয়। এরপর উদ্যানটি আরও নিরাপদ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রমনা কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ একত্রিত হয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ব্যবহৃত রমনা কালী মন্দিরের গেটটি অন্য পাশে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব অপরাধের মূল কারণ। শিক্ষার্থীদের মতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি এবং শহীদ মিনার এলাকা রাতের অন্ধকারে প্রায়ই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। যদিও পুলিশের টহল থাকে, তা অপরাধ প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও আধুনিক করতে হবে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    তাদের প্রশ্ন, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি চারপাশে থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাস যদি নিরাপদ না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা কোথায় নিরাপত্তা পাবে?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ক্যাম্পাস ও আশপাশে নিরাপত্তাহীনতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থানা প্রশাসন—উভয়েরই। তিনি জানান, এই এলাকায় মাদকের কারবার ও তা ঘিরে বিভিন্ন অপরাধের বিষয়টি তারা বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছেন “কিন্তু বারবার জানানোর পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি বলেন এ কারণে এমন অপরাধের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

    জুবায়ের আরও বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তাদের আইন নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা থামবে না। “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে ধরা হলেও ক্যাম্পাস বা আশপাশে মাদকের বিস্তার ও খুন-খারাপি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে,” তিনি উল্লেখ করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো ঘটনা ঘটার পর আমরা যত চেষ্টা করি, তার চেয়ে ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলা বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে চাই, তখন অনেক শিক্ষার্থী সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেয় না।

    নিরাপত্তা উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের একাংশের বাধা, দাবি প্রশাসনের:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি বলেন, “কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন শৃঙ্খলা বা নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগ নিতে চাই, তখন অনেক শিক্ষার্থী তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে না। ফলে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

    তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, পলাশী রোড বা শহীদ মিনার এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘ওপেন স্পেস’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গা রক্ষার দাবিতে এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে। “অনেক ক্ষেত্রে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। যদিও বলপ্রয়োগ কমই করা হয়, তবুও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হয়। মূল সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত স্থান, যেখানে কে কখন প্রবেশ করে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,” তিনি বলেন।

    পুলিশি সহযোগিতা ও ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধতা নিয়েও তিনি বলেন, ক্যাম্পাস সংলগ্ন শাহবাগ ও নিউমার্কেট থানা স্বাধীনভাবে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে অংশ নেয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুরোধ করলে এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা জানালে পুলিশ আসে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতি পছন্দ করে না, এবং কিছু শিক্ষকও এই ব্যবস্থার পক্ষে নয়। তাই পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম অনেকাংশেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।

    ড. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “পুলিশ ফাঁড়ির মূল দায়িত্ব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের শাহবাগ, নিউমার্কেটসহ এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কাজও তারা করে। তবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে তারা গুরুত্ব দেয়।”

    তিনি শেষ করেন, “আমরা সবসময়ই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিক। কিন্তু যখন কোনো ব্যবস্থা নিতে যাই, তখন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা আসে। যারা সমর্থন করে, তাদের আওয়াজ অনেক সময় সামনে আসে না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা যদি সহযোগিতা করে, প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারাটা আমাদের জন্যও কষ্টের বিষয়।” শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অপরাধ

    রেলওয়ে প্রকল্পে ভ্যারিয়েশনের নামে দুর্নীতিবাজকে আড়াল করার চেষ্টা

    এপ্রিল 5, 2026
    মতামত

    কীভাবে ব্যাংকার, আমলা এবং নীরব দর্শকেরা গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যাকে টিকিয়ে রাখে?

    এপ্রিল 5, 2026
    অর্থনীতি

    সঙ্কটময় সময়ে বড় বাজেট—অর্থনীতি কি নতুন দিশা পাবে?

    এপ্রিল 5, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.