Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, মে 2, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সঙ্কটময় সময়ে বড় বাজেট—অর্থনীতি কি নতুন দিশা পাবে?
    অর্থনীতি

    সঙ্কটময় সময়ে বড় বাজেট—অর্থনীতি কি নতুন দিশা পাবে?

    মনিরুজ্জামানএপ্রিল 5, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। সেই চাপ ধীরে ধীরে এসে পড়ছে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ওপরও। এমন এক অস্থির বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন সরকারের প্রথম বাজেট সামনে আসছে, যা নিয়ে অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও সতর্কতা।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার একটি বড় বাজেট প্রণয়নের কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়া মোটেই সহজ নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা একসঙ্গে বাজেট প্রণয়নে জটিলতা বাড়িয়েছে।

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানিসংকট, প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্ব আদায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি সবকিছু মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয়, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বাড়তে থাকা ঋণের চাপ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

    আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করা হতে পারে। এরই মধ্যে বাজেটকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে, যাতে বাস্তবসম্মত একটি বাজেট প্রণয়ন করা যায়।

    এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য থাকবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে থাকছে। তবে বড় বাজেটের সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চাপ থাকায় করের বোঝা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারেন।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার দাঁড়াতে পারে ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

    এই ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক উৎস থেকে আসতে পারে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

    প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ছয় লাখ তেতাল্লিশ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আসার লক্ষ্য পাঁচ লাখ একাত্তর হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য প্রায় পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদ্যমান প্রবণতা বিবেচনায় অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উচ্চ লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে না।

    একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে প্রায় দুই লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় তেইশ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ব্যয়ের ফলপ্রদতা নিশ্চিত করা যায়। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এতে বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের গতি কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কেন্দ্রীয় নীতি সংলাপ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীরগতির রাজস্ব আহরণ, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, কম বিনিয়োগ এবং সীমিত কর্মসংস্থান, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। তার মতে, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার জোরদার করা জরুরি।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় নিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় বাংলাদেশসহ বহু দেশে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এই সংঘাতের প্রভাবে আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দশ ডলার বাড়লে দেশে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে দাম একশ তেইশ ডলারের বেশি থাকলে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় একুশ হাজার কোটি টাকা।

    সরকার আপাতত জ্বালানির দাম না বাড়ানোর অবস্থানে থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে বাজেট বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেলে প্রবাসী আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা প্রবৃদ্ধির উচ্চ লক্ষ্য কিছুটা কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    অন্যদিকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারকে একসঙ্গে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এগুলো হলো—পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিজনিত অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলানো।

    রাজস্ব ঘাটতি লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়াতে পারে:

    আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে রাজস্ব আদায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধারাবাহিকভাবে পূরণ হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের শুল্ক ও কর আদায়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে সাতেকাশি এক কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে এই ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

    ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেছেন, ‘করের আওতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এজন্য এনবিআরের আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধুমাত্র বড় বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না, বরং আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করা প্রয়োজন।’

    মূল্যস্ফীতি থেকে মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ:

    গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেন, ‘দেশে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।’

    অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন উল্লেখ করেছেন। তবে তারা সতর্ক করেছেন, যদি জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বাড়ে, তবে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সুদহার কমানো মূল্যস্ফীতি উসকে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

    বেসরকারি বিনিয়োগের ধারা হতাশাজনক:

    দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উচ্চ সুদহারের কারণে জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এযাবৎকালের সর্বনিম্ন ৬.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ৬.১ শতাংশ থেকে জানুয়ারিতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেখানে এই হার ছিল ১০.১৩ শতাংশ, সেখান থেকে ক্রমেই উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।

    ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিনিয়োগ তলানিতে নেমেছে। সরকারি প্রকল্পও স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে শিল্প ও প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি অনেকাংশে কমেছে। বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হবে দেশীয় শিল্প এবং বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা।

    অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেছেন, ‘সরকারের রাজস্ব আয় এবং অন্যান্য আয় কমছে। নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগের চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির চাপও বাড়ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের দামও বাড়তে পারে।’

    দেশের শ্রমবাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, তবু তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বেকারত্বের পাশাপাশি আংশিক বেকারত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

    আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ছয় শতাংশ। সে অনুযায়ী দেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬৮ লাখ ৭০৭ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়ালেই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়; বেসরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে। তারা মনে করেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে হলে প্রতিবছর গড়ে প্রায় আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রয়োজন। বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৩.৬৯ শতাংশে অবস্থান করছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম এবং উদ্বেগজনক।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ছয় হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগামী বাজেটেও এই খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অত্যন্ত দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। একদিকে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে হবে, অন্যদিকে জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

    তিনি আরও বলেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে চায়। অর্থনীতিতে চাপ মোকাবেলায় টাকা ছাপানোর মতো স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পথ বেছে নেওয়া হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বাস্তবতা মেনে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাব বাড়ছে, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা ও অর্থের অভাব বিদ্যমান। তাই খরচে সাশ্রয়ী হতে হবে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ। আগামী বাজেটে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।’

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    মিশ্র সংকেতে অর্থনীতি—মূল্যস্ফীতি কমলেও রপ্তানি-রাজস্বে চাপ

    মে 1, 2026
    অর্থনীতি

    কেন হঠাৎ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব?

    মে 1, 2026
    অর্থনীতি

    দেশে তেল-গ্যাসের তিন কূপ খনন করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

    মে 1, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.