রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর মামলায় তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুইজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক—যাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মো. রমজান ও সাদ্দাম-কে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে আরও প্রত্যেক আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত জানিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে আসামিদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করা যাবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৬ মে শিশুটিকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গুরুতরভাবে আহত করা হয়, যাতে তাকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে শিশুটির মা মামলা দায়ের করেন এবং র্যাবের তদন্তে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আদালত দুইজন আসামিকে বেকসুর খালাসও দিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

