জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অনিয়মিত নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত ৩১ মার্চ উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—সমাজসেবা অফিসার ও এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক বডির সাবেক সদস্য মো. জহির উদ্দিন, বগুড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও সাবেক সদস্য মো. রকনুল হক, প্রতিষ্ঠানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে গণসংযোগ কর্মকর্তা) মো. আশিকুর রহমান, সাবেক ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোছা. পারভীন বেগম এবং সাবেক প্লাম্বার মো. নয়ন আলী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তত্ত্বাবধায়ক বডি গঠন করা হয়। তাদের দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বডি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ২০২০ সালে বিভিন্ন শূন্য পদে অস্থায়ী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে শুধু মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী বাছাই করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের নিয়োগ দেয়।
এছাড়া, গঠনতন্ত্রে উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও প্লাম্বার পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনকে বিধিবহির্ভূতভাবে এক পদ থেকে অন্য পদে পদায়ন করা হয়, যদিও এ ধরনের সুযোগ গঠনতন্ত্রে নেই।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনটি পদে নিয়োগ ও পদায়নের ফলে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৩৬ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা ৪০৯, ৪২০, ১০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

