শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা ছিলেন মোহাম্মদ এজাজ। নিষিদ্ধ উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগসহ একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী দুই উপদেষ্টার সমর্থনেই এই নিয়োগ সম্ভব হয়েছিল।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসকের চেয়ার ব্যবহার করে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তিনি নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তার এসব কর্মকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকারের ওই দুই সাবেক উপদেষ্টার সরাসরি প্রশ্রয় ছিল। এমনকি ডিএনসিসির তহবিল, অর্থ ও রাজস্ব ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে বিপুল অঙ্কের অর্থ নয়ছয় করার পেছনেও তাদের প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠে। একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার ভিত্তিতেই তাকে এই পদে বসানো হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং ডিএনসিসি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে জানা যায়, এক বছরের দায়িত্বকালে এজাজ অন্তত ৪১০ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডিএনসিসিতে অভিযান চালিয়েছে। একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে অপসারণ করা হয়। বিদায়ের দিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ডিএনসিসির ২৬টি অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা রেখে গেছেন। তবে বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণ তহবিলে ৮৫০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে মাত্র ২৫ কোটি টাকা নগদ ছিল। এতে প্রায় ৪১০ কোটি টাকার গরমিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এজাজ দায়িত্ব নেওয়ার সময় নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা, যা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি। তার দাবি, অধিকাংশ অর্থ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ফেসবুকে উল্লেখ করা অর্থ মূলত সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে, নগদ অর্থ নয়।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা আরও জানান, নামে-বেনামে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্থার মজুত অর্থ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের তথ্য সামনে আসায় বর্তমান প্রশাসনও বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
সূত্র জানায়, দায়িত্বের শেষ দিকে এজাজ ১০২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করেছিলেন। এসব প্রকল্পের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক প্রকল্প সাধারণ মানুষের উপকারে আসেনি। বরং অনুমোদনের আড়ালে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে তার চালু করা কয়েকটি প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও বন্ধের চিন্তা চলছে।
উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প রয়েছে। তবে বাস্তবে সেখানে এখনো বৃষ্টির সময় পানি জমে। আগারগাঁও থেকে মিরপুর ৬০ ফুট সড়ক সংযোগ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে; স্থানীয়দের মতে, এটি ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছিল। ডেঙ্গু প্রতিরোধে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি থাকলেও বাস্তবে মশার উপদ্রব কমেনি, বরং বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া ‘গ্রিন অ্যাডভোকেট’ তৈরির নামে ৬০০ জনকে নিয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পাবলিক টয়লেট এবং পাঁচটি ‘আইকনিক পুলিশ বক্স’ নির্মাণের প্রকল্পও জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের আরও কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে।
বিব্রত বর্তমান প্রশাসন:
স্বল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসন। বিশেষ করে সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রশাসকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
তবে তিনি নিশ্চিত করেন, সিটি করপোরেশন নিজস্বভাবেও অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছে। তদন্তে যদি এজাজের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান বর্তমান প্রশাসক।
শেষ সময়ে দেড় হাজার কোটি টাকার অর্থব্যয়:
দায়িত্ব ছাড়ার শেষ দিনেও আর্থিক শৃঙ্খলা মানা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিদায়ের দিনে তিনি নগদ তহবিলের হিসাব সমন্বয় না করেই এবং চলমান প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে হালনাগাদ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ৩৬টি বিল অনুমোদন দেন। এর ফলে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্তমানে সিটি করপোরেশনের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি টাকা।
সংস্থার নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে নগদ ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। পরবর্তী অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয় ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট নগদ স্থিতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়েই ‘উচ্চাভিলাষী’ বাজেট প্রণয়ন করে একাধিক প্রকল্প হাতে নেন এজাজ। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র চার মাসে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যয় করা হয় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই নগদ স্থিতি নেমে আসে ৩৩৬ কোটি টাকায়।
এরপর ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা। এতে মোট নগদ স্থিতি দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। কিন্তু একই সময়ে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয়ের মাধ্যমে খরচ করা হয় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর ফলে বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার সময়, অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি, নগদ স্থিতি কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৫ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি ডিএনসিসির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। তবে আগের তহবিলে থাকা ৮২৫ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট জরুরি দায় মেটাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, এজাজ তার পুরো মেয়াদকালে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে মোট ২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের কাজ শুরু বা অনুমোদনের আগেই তিনি ব্যক্তিগত অংশ বুঝে নিয়েছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রায় ১৬ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়া হতো। তবে এজাজ দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছু প্রকল্পে আর ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এতে আগাম কমিশন দেওয়া ঠিকাদাররাও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ:
রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দকে ঘিরে নতুন করে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে অগ্নিকাণ্ডে বাজারটির দোকানগুলো পুড়ে যাওয়ার পর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে ২০২২ সালে ডিএনসিসি সেখানে থাকা ৩৩টি অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করে।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উচ্ছেদ হওয়া কিছু দোকানি পুনরায় বরাদ্দ পেতে নগর ভবনে তদবির শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের অনুমোদনে সংস্থাটির প্রধান এস্টেট অফিসার শওকত ওসমান ওই দোকানগুলো আবার বরাদ্দ দেন। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভেঙে ৩৩টির পরিবর্তে দোকানের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯টি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এস্টেট অফিসার প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সে সময় কেউ প্রকাশ্যে আপত্তি তোলেননি।
দোকানিদের দাবি, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাগজে-কলমে প্রতি দোকানের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও বাস্তবে দোকানের অবস্থান ও সুবিধা অনুযায়ী ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এ অর্থের বড় অংশ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
গাবতলী হাট ইজারায় অনিয়ম, রাজস্বে বড় ঘাটতি:
গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে। এতে সিটি করপোরেশনের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ হাট ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সরকার নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য ছিল ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা ফি নির্ধারণ করা হয় মোট দরপত্রের ১০ শতাংশ। এ প্রক্রিয়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
দরপত্র মূল্যায়নে দেখা যায়, ‘আরাত মোটর’ সর্বোচ্চ ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করে প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ‘এসএফ করপোরেশন’, যার দর ছিল ২১ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ‘রাইয়ান এন্টারপ্রাইজ’ দর দেয় ১৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান বাতিল হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাভাবিক নিয়মে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং হাট নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার কথা বলে প্রক্রিয়াটি ভিন্নদিকে নেওয়া হয়। পরে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা ‘রাইয়ান এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী সাইদুলকে হাট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি সাবেক প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
পরবর্তীতে সাইদুলের নেতৃত্বে হাটের হাসিল আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিএনসিসির প্রায় ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সাবেক প্রশাসকের বিরুদ্ধে।
ক্ষমতার অপব্যবহারে স্কুল উচ্ছেদ, তৈরি সংযোগ সড়ক:
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ডিএনসিসির সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিজের বাসায় যাতায়াত সহজ করতে একটি স্কুল উচ্ছেদ করে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান জাদুঘরের উল্টো পাশে ‘ভূঁইয়া বাড়ি, ৬০ পশ্চিম আগারগাঁও’ নামে পাঁচতলা একটি ভবন রয়েছে, যা এজাজের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আগে ওই বাড়িতে যেতে প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক ব্যবহার করা হতো, তবে চলাচলে কিছুটা ঘুরে যেতে হতো।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি মূল সড়ক থেকে সরাসরি নিজের বাড়িতে প্রবেশের জন্য প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন। এ জন্য বাড়ির পাশের একটি স্কুলকে বিকল্প জায়গা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের মতে, উচ্ছেদ করা ওই জায়গায় পরে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সড়ক নির্মাণ করা হয়। বিষয়টিকে আড়াল করতে সেখানে পার্ক ও পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণের নামে প্রকল্পও অনুমোদন নেওয়া হয়। ঘটনাটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরিকল্পিত অনিয়মের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এজাজের লেনদেন খতিয়ে দেখছে দুদক:
দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, গাবতলী পশুর হাট ইজারায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে দায়িত্ব দেওয়া, ই-রিকশা প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, বনানীর বোরাক টাওয়ার ও হোটেল শেরাটনের দখল নিয়ে বিতর্ক, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস পরিচালনা এবং ফুটপাতে দোকান বরাদ্দে অর্থ লেনদেন—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা হলে সুপারিশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কমিশন না থাকলেও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

