উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুসরাত জাহান (২৮) ও মো. সোহান (২৪) নামের দুইজনকে আটক করা হয়। তারা একটি ভুয়া কনসালটেন্সি অফিসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু হয় প্রতারণার ফাঁদ। অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কুয়েত ও সার্বিয়ার মতো দেশে উচ্চ বেতনে কাজের আশ্বাস দিয়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হতো।
চুক্তি অনুযায়ী কারও কাছ থেকে ৬ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা জমা দেন। প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রথমে ভুয়া ভিসা দেখানো হয় এবং পরে ভুয়া বিমান টিকিটও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ফ্লাইটের আগ মুহূর্তে নানা অজুহাতে টিকিট বাতিলের কথা বলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় চক্রটি।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় একটি অফিস খুলে এই চক্রটি ‘কনসালটেন্সি’ পরিচয়ে কার্যক্রম চালাত। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আকর্ষণীয় বেতনের বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা মানুষকে প্রলুব্ধ করত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে চাকরির নামে এ ধরনের প্রতারণা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ বারবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বিদেশি চাকরির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। পাশাপাশি সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

