চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। হামলায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৯ থেকে ১০টি গভীর কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মারাত্মক ক্ষতের কারণে তাঁকে প্রথমে চট্টগ্রাম, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের পুরোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকার কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের দাবি, বাড়ি থেকে অল্প দূরেই পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির ডাকে বের হয়ে হামলার শিকার হন জিলহান। হামলার সময় ধারালো রামদা দিয়ে তাঁর দুই হাত, পা ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আঘাতে শরীরের কিছু অংশের মাংস বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেও জানান তাঁরা।
স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোররাতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, আহত ব্যক্তির শরীরে অত্যন্ত গভীর ক্ষত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পাশাপাশি আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হয়েছে।
ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকারিয়া হাসান জিলহান দাবি করেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সাইমন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সাইমনের বড় ভাইও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। তাঁর দাবি, আহত যুবক স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হামলার খবর পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

