ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিচারিক প্রক্রিয়া সেই প্রতিশোধেরই অংশ।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন মূলত মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের কাঠামো পরিবর্তন করে তার বিরুদ্ধে যে বিচার পরিচালনা করা হয়েছে, তা আইনি নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখেন না।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, ওই আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এর পেছনে সরকার পরিবর্তনের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা কাজ করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের কিছু নেতার প্রকাশ্য বক্তব্যে পুলিশ হত্যা, সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে, যা আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে তার এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

