কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক ডিএনএ পরীক্ষায় তার পোশাকে আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রায় এক মাস আগে পরীক্ষাগারে সম্পন্ন বিশ্লেষণে এই নতুন ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেলেও বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০১৭ সালে একই পোশাকের নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেই সময় কোনো সন্দেহভাজনের সঙ্গে ওই ডিএনএ মেলানো সম্ভব হয়নি।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় পাওয়া নতুন রক্তের নমুনা মামলার তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তার ভাষায়, আগের ডিএনএ ফলাফলের পাশাপাশি এবার অতিরিক্ত এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশন শেষে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সেনানিবাস সংলগ্ন একটি জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং এরপর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় তদন্ত চালালেও মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নতুন তদন্ত পর্যায়ে একাধিক সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহ ও পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা আদালতের নির্দেশে সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর পাওয়া নতুন ডিএনএ তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে। তবে তারা এটিও স্বীকার করছেন যে, আগের মতো এবারও এই তথ্য সরাসরি সন্দেহভাজনের সঙ্গে মিলানো না গেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে।
২০১৭ সালের আগের পরীক্ষায় পাওয়া তিনটি পুরুষ ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে নতুন পাওয়া রক্তের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
মামলাটি শুরু থেকে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। নতুন ডিএনএ প্রমাণকে কেন্দ্র করে তদন্ত আবারও নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও সন্দেহভাজনদের নমুনা বিশ্লেষণ করে দ্রুততম সময়ে মামলার অগ্রগতি আনার চেষ্টা চলছে।

