গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার পাইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে উপপরিদর্শক (এসআই, সশস্ত্র) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য গত শুক্রবার মাহমুদুল গোপালগঞ্জে আসেন। কাজ শেষ করার পর রাতে তিনি পাইকান্দি গ্রামে নিজের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন শ্বশুরবাড়ির পাশের পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছুটিতে বাড়িতে এলে মাহমুদুল বেশির ভাগ সময় শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে মাহমুদুলের পারিবারিক বিরোধ চলছিল।
নিহতের বড় ভাই বি এম আশিকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, মাহমুদুলের স্ত্রী বাবার বাড়িতেই থাকতেন। ছুটিতে এলে ভাইও সেখানে থাকতেন। এবার ছুটিতে আসার পর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দেওয়া নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। তার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজনই মাহমুদুলকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে থাকতে পারেন।
নিহতের ছোট বোন নাদিরা সুলতানাও অভিযোগ করেছেন, পারিবারিক কারণে তার ভাইকে অনেক সময় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে তার ভাইকে ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে আটক মাহমুদুলের শ্বশুর ঝুনু শেখের এক স্বজন জালাল শেখ দাবি করেছেন, মাহমুদুল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই পুকুরে গোসল করতে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। তার ধারণা, গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হতে পারে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুর ঝুনু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

