বাংলাদেশের আর্থিক খাতে আলোচিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রাহকের প্রায় ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এসএফএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করেছে সংস্থাটি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রীতিশ কুমার সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব কাগজপত্র বিশ্লেষণ করলে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সব নথি পাঠাতে বলা হয়েছে, যাতে অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।
দুদক যেসব নথি চেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে এসএফএস ফাইন্যান্সের নিরীক্ষা প্রতিবেদন, যা আব্দুল ওহাব অ্যান্ড কোং প্রস্তুত করেছিল। এছাড়া উত্তরা এলাকার জাহানারা গার্ডেন প্রকল্পে ১৫৫৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাগজপত্রও জমা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ গ্রহণের রসিদ, হিসাব বিবরণী, বিক্রয় চুক্তি, নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ার কারণ এবং অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শুধু সম্পত্তি-সংক্রান্ত নথিই নয়, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত ২২ কোটি টাকা আদায়ের বিস্তারিত তথ্যও তলব করেছে দুদক। এই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সরকারি খাতে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং অর্থের লেনদেনের যথাযথ প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া আর্থস্কোপ লিমিটেডকে দেওয়া ঋণসংক্রান্ত সব নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন, ঋণ প্রস্তাব, ঋণ বিভাগের সুপারিশ, ঋণ কমিটির সিদ্ধান্ত, অর্থ ছাড়ের অনুমোদনপত্র এবং অর্থ বিতরণের নথি রয়েছে। এসব কাগজপত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা যাচাই করবে তদন্তকারী সংস্থা।
দুদকের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থেই এসব নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ও কাগজপত্র জমা না দিলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
প্রীতিশ কুমার সরকার এসএফএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন। জানা যায়, ২০১৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রশান্ত কুমার হালদারকে ঘিরে দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ বহু বছর ধরে আলোচিত। তার বিরুদ্ধে এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি মামলা করেছে। সেই ধারাবাহিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এসএফএস ফাইন্যান্সের এই অভিযোগটিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

