ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটি দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন একদল কর্মী। লক্ষ্মীপুরে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে অন্তত আটচল্লিশজন গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।
এই ঘটনার মূল হোতাকে প্রায় এক বছর আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে সম্প্রতি তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির নির্দিষ্ট ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের নোয়াখালী কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, লক্ষ্মীপুরের একটি আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে জেলার একটি শাখার আওতাধীন আউটলেটের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যাংকের এক টেলারসহ আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় গ্রাহকদের জমা দেওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করতেন। এই প্রতারণার কৌশল ছিল বেশ সুপরিকল্পিত—গ্রাহকদের বলা হতো ব্যাংকের সার্ভারে সাময়িক সমস্যা চলছে, আর এই অজুহাতে তাদের হাতে হাতে লেখা ভুয়া জমা রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হতো। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতারণায় মোট আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকার বেশি। প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায় তখনই, যখন গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ তুলতে বা হিসাব হালনাগাদ করতে গিয়ে গরমিল লক্ষ করেন। ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
এই ঘটনায় গত বছর মাঝামাঝি সময়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, আর কিছুদিনের মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলার তদন্তকাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে স্থানীয় জেলা ও দায়রা আদালত নিজ উদ্যোগে বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এরপর পিবিআইয়ের একজন উপ-পরিদর্শক আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আত্মসাতের পুরো চিত্র বেরিয়ে আসে।
পিবিআই কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের খুঁটিনাটি তথ্য পাওয়া গেছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনা আরও একবার প্রশ্ন তুলেছে ব্যাংকিং খাতের এজেন্ট পর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে, বিশেষ করে গ্রাহকের অর্থ লেনদেন নিশ্চিতে ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

