কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের সার সংকটের জের ধরে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের গুদামের বেড়া ভেঙে কৃষকেরা সার নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গুদামে থাকা ৩৪২ বস্তা সারের মধ্যে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যান কৃষকেরা।
ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিকে আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এবং সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সারের চাহিদা ছিল ৪ হাজার বস্তা। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩২০ বস্তা। সর্বশেষ গত শনিবার ৫০ কেজির ৩৪০ বস্তা সার ডিলারের গুদামে আনা হয়। অথচ শুধু শিলখুড়ি ইউনিয়নের চাহিদাই ৬৮ টন (প্রায় ১ হাজার ৩৬০ বস্তা)। এই চাহিদার তুলনায় ডিলারের কাছে যে সার ছিল, তা ছিল নিতান্তই কম।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া সার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বিতরণের কথা বলা হয়েছে।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সার ডিলার, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ডিলার এখনও মামলা করেননি। তবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেছেন, ‘মব’ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় তারা বাধ্য হয়েছেন এই পথ বেছে নিতে।
ঘটনার পর কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৃষকেরা বলছেন, আমন মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, সার বিতরণ ব্যবস্থায় যে ফাঁক রয়েছে, তা দূর করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে কী সুপারিশ আসে, সেদিকে এখন সবার নজর।

