চট্টগ্রামের চন্দনাইশে একটি বৌদ্ধবিহারে ভোররাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশ পরা অস্ত্রধারীরা বিহারের এক ভিক্ষুকে জিম্মি করে টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ হাসিমপুরের বিজয়া রামবিহারে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিহারের ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিত জানিয়েছেন, ধর্মীয় কার্যাদি করার জন্য ভোররাত চারটার দিকে তিনি তাঁর কক্ষের দরজা খোলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি দা-কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। এরপর তাঁকে কক্ষের খাটে বসিয়ে রেখে অস্ত্রধারীরা বলেন, ‘চুপ করে বসে থাকেন, কথা বললে সমস্যা হবে।’ এই হুমকির পর তাঁকে জিম্মি করে রাখা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আলমারি খুলে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, একটি সাউন্ড বক্সসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ভিক্ষু জানান, ডাকাতেরা যাওয়ার সময় কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। পরে পাশের কক্ষের দুই শ্রমণকে ডেকে দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি।
ঘটনার পর বিহার কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় বিহার কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ডাকাতরা আগে থেকেই বিহারের ভেতরের অবস্থান সম্পর্কে জানত এবং পরিকল্পিতভাবেই এই ডাকাতি চালিয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি ডাকাতির ঘটনা নয়, এটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। চন্দনাইশ এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বহু প্রাচীন বিহার রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ভিক্ষুরা ধর্মীয় কার্যাদি পালন করেন। কিন্তু এসব বিহারে নিরাপত্তার ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অনেক বিহারে রাতে পাহারার ব্যবস্থা নেই, সিসি ক্যামেরাও নেই। ফলে অপরাধীরা সহজেই হানা দিতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, এর আগেও কয়েকটি বিহারে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা তাদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তারা সরকার ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু পুলিশি টহল যথেষ্ট নয়, প্রতিটি বিহারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা জরুরি। একইসঙ্গে ডাকাতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিহার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিতের মতো যারা প্রতিদিন ভোরে ধর্মীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই ডাকাতির ঘটনা প্রমাণ করছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষার জন্য শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতাও বাড়াতে হবে। অন্যথায় এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

