বরিশাল নগরীতে একজন আইনজীবী সহকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত স্ত্রী।
সোমবার গভীর রাতে নগরীর বাঘিয়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন আইনজীবী সহকারী (মুহুরী) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যার বয়স ছিল পঞ্চান্ন বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের পিতা, যার মধ্যে ছেলে বিদেশে প্রবাসী।
বাড়ির মালিকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার আগে গভীর রাতে অভিযুক্ত স্ত্রী বাসা থেকে বেরিয়ে তার এক ভাতিজির সঙ্গে দেখা করেন এবং তার হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে যান। এ সময় তিনি জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।
পরে ওই ভাতিজি তার স্বামীকে নিয়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে বিছানায় রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্থানীয় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন উপপুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, জরুরি সেবা নম্বরে খবর পেয়ে ভোররাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা এবং বাড়ির মালিকের সহায়তায় তৃতীয় তলার কক্ষে মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে নিহত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে দুইবার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন স্ত্রী, এবং দ্বিতীয়বার তার হাতে থাকা ব্যাগটি তিনি ভাতিজির কাছে রেখে যান। সেই ভাতিজি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন, এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ব্যাগে নিহতের মোবাইল ফোন, বাসার চাবি ও অন্যান্য কিছু জিনিসপত্র পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড পরিবারের ভেতর থেকেই ঘটেছে, এবং সন্দেহের তীর মূলত নিহতের স্ত্রীর দিকে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তির অন্য একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। এই সম্পর্কের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে। পলাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

