ঝিনাইদহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছিলেন এক নারী। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
এরপর ওই ব্যবসায়ীর করা পাল্টা মামলায় ধর্ষণচেষ্টার মামলার বাদী বিউটি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. বসির উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার বিউটি খাতুনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।
জমি নিয়ে বিরোধ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চরমুরারিদহ গ্রামের একটি জমি নিয়ে বিউটি খাতুনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এর মধ্যে মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন বিউটি খাতুন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ খ ধারায় মামলাটি করা হয়।
মামলাটির তদন্ত করে পিবিআই। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
পাল্টা মামলায় গ্রেপ্তার
মামলা খারিজের পর বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজ। নারী ও শিশু পিটিশন নম্বর ৯১/২০২৬ হিসেবে মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
আদালত পিটিশনটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মিরাজ জামান রাজ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করেন।
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে হয়রানি ও মানহানি করা হয়েছে। এ কারণে আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি পাল্টা মামলা করেছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বিউটি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

