কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে আছড়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে ভাবিকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ইমন মিয়াকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ইমন ওই গ্রামের প্রয়াত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
নিহত দুজন হলেন ইমনের মা পিয়ারা বেগম (৬৫) ও ভাতিজি ইসরাত জাহান। ইসরাত ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে। আহত ভাবি রাবেয়া বেগম সুজন মিয়ার স্ত্রী। তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত পিয়ারা বেগমের বড় ভাই মহেশপুর গ্রামের ফারুক ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, চার-পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমন আহত হন। এরপর তাঁর পায়ে একাধিকবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। গতকালও ৭০ হাজার টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন। ফারুকের ধারণা, ব্যথানাশক ইনজেকশনের প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে।
ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমন প্রথমে ঘুমন্ত ইসরাতকে তুলে এনে আছড়ে মারেন। মা পিয়ারা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ভাবি রাবেয়া বেগম শাশুড়িকে বাঁচাতে এলে তাঁকেও এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
আটকের পর পুলিশকে ইমন দাবি করেছেন, তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বাধা দিয়েছেন। তাই তাঁদের হত্যা করেছেন। এটি অভিযুক্তের নিজের বক্তব্য, তদন্তে যাচাই হয়নি।
খবর পেয়ে দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহীন ও দেবিদ্বার থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এএসপি জানান, পা ভাঙার পর ইমনের দুবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। পায়ের ব্যথার যন্ত্রণায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা। তবে এটি প্রাথমিক অনুমান।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না বলে জানান তিনি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনের চোখে নির্দোষ। আহত রাবেয়া বেগমের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

