রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় একটি নিয়ন্ত্রণহীন প্রাইভেট গাড়ির চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন মেহেদি হাসান মীর (২৪) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক। গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে, জার্মান দূতাবাসের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি কালো রঙের এসইউভি দ্রুতগতিতে চালিয়ে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ফুটপাতে উঠে যায়। ওই সময় পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিক মেহেদি কাজের ফাঁকে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গাড়িটি তাঁকে চাপা দিয়ে সামনে থাকা একটি সড়কবাতির খুঁটিতে গিয়ে ধাক্কা লাগায়, যাতে খুঁটিটিও ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মেহেদির। দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় মেহেদিকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় জনতা গাড়ির চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাঈল হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, যার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তিনি জানান, কিশোরটির বাবা গুলশান এলাকার একজন ব্যবসায়ী এবং পরিবারটি গুলশানেই বসবাস করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি জব্দ করে চালককে আটক করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আটক কিশোরের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি।
নিহত মেহেদি হাসান মীরের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে গত বছরের একটি আলোচিত মামলার সঙ্গে তুলনা করে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ রাতে বনানীর ১২ নম্বর সড়কে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স সিকিউর লিমিটেডের নিরাপত্তাকর্মী দীন মোহাম্মদকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছিলেন গুলশান ক্লাবের বোর্ড সদস্য মেহেদি মালেক সজীব, যিনি জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার প্রয়াত আব্দুল মালেক উকিলের নাতি বলে পরিচিত।
ঘটনার পর তিনি প্রথমে পলাতক থাকলেও পরে গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে যান। এক সাংবাদিকের কাছে তিনি নিজেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে সে সময় জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে দাবি করছেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছিল, যদিও নির্দিষ্ট এই দাবিটি স্বতন্ত্র সংবাদসূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।
এই দুটি ঘটনার মিল টেনে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন সড়ক দুর্ঘটনায় বিত্তশালী পরিবারের সদস্যদের বিচারের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও আইনি প্রক্রিয়ার সমতা নিয়ে। ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে অনলাইন আলোচনায়।
বারিধারার এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত অভিযোগ বা ব্যবস্থা কী হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

