কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক হওয়া কয়েকজনের থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় রাখা অবস্থায় দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায় ১৭ জন কিশোর, আর এই ঘটনার সময় থানার ভেতরে ভাঙচুরও চালানো হয়। তবে পুলিশ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বুধবার সারাদিন দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার সন্দেহে মোট আটাশ জনকে আটক করে। আটকের পর তাদের থানার একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রাখা হয়। তবে রাতের দিকে সেই কক্ষে থাকা কয়েকজন কিশোর হঠাৎ দরজা ভেঙে বেরিয়ে পড়ে, এবং এ সময় কক্ষের ভেতরে থাকা কয়েকটি চেয়ারও ভাঙচুরের শিকার হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আটক হওয়া কিশোরদের মধ্যে সতেরো জন থানা থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটক হওয়া কিশোরদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের সন্তানদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই পুলিশের রেকর্ডে আগে থেকে কোনো অভিযোগ নেই। এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেল থেকেই আটক কিশোরদের স্বজন ও এলাকাবাসী থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং হট্টগোল।
তবে দাউদকান্দি মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ঘটনাকে গুরুতর কিছু বলতে নারাজ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে আটাশ জনকে আটক করা হয়েছিল, আর তাদের স্বজনরা একসঙ্গে থানায় এসে জড়ো হওয়াতেই সাময়িক ভিড় ও জটলার সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, রাত সাড়ে দশটার দিকে বাইশ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বাকি ছয় জনের বিষয়ে এখনও যাচাই-বাছাই চলমান।
উল্লেখ্য, বুধবার সারা কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী একটি বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। জেলার আঠারোটি থানায় একযোগে চালানো এই অভিযানে মোট ছয়শত চব্বিশ জন কিশোরকে আটক করা হয়, যার মধ্যে দাউদকান্দি এলাকা থেকেই আটক হয় আটাশ জন। এই ব্যাপক অভিযানের প্রেক্ষাপটেই দাউদকান্দি থানায় ঘটে যাওয়া এই বিশৃঙ্খলার ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

