কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপাড়ের একটি বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে সতেরো জন যুবককে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, বাড়িটির একটি নির্দিষ্ট কক্ষে ওই যুবকদের রেখে বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, আর নিরাপত্তার নামে বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন কয়েকজন। পাচারকারীদের পরিকল্পনা ছিল গভীর রাতে ট্রলারযোগে তাঁদের সমুদ্রের মাঝামাঝি নিয়ে গিয়ে বড় জাহাজে তুলে দেওয়া, তারপর মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের জলসীমা পার করে মালয়েশিয়ায় পাচার করা। তবে সময়মতো তথ্য পেয়ে এসআরবি সদস্যরা কক্ষের তালা ভেঙে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া যুবকদের মধ্যে অধিকাংশই কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা, বাকিরা বান্দরবানের লামা এলাকার। এসআরবি জানিয়েছে, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের প্রথমে টেকনাফে নিয়ে আসা হয়, তারপর আটকে রেখে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এসআরবি-১৫-এর আইন ও গণমাধ্যম শাখার এক কর্মকর্তা এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির মালিকানাধীন বাড়িতেই ওই সতেরো জনকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাঁদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরে পাচার-চক্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মানব পাচার প্রতিরোধে সমুদ্র উপকূল এলাকায় নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।
উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বিদেশে পাচারের এই ধরনের চক্র নতুন নয়—বিশেষ করে টেকনাফের মতো সীমান্তবর্তী ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচারকারীদের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চাকরির প্রলোভনে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এই কৌশল ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

