রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে সচিব পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ত্রিশ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগ। আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি।
গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন সচিব পরিচয় দেওয়া মূল প্রতারক, একজন কথিত জমির মালিক এবং আরেকজন জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দালাল হিসেবে চক্রে যুক্ত ছিলেন।
পিবিআই কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকার বাসিন্দা ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জমির শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে চক্রের এক সদস্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে এক সচিবের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে এক কথিত সচিবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে ধানমন্ডির একটি অভিজাত বাসভবনে নিয়ে গিয়ে আধুনিক গাড়িতে আসা এক ব্যক্তিকে সচিব বলে পরিচয় দেওয়া হয়, যিনি জানান নিজে সরাসরি জমি কিনতে না পারলেও ভুক্তভোগীর মাধ্যমে জমি কেনার ইচ্ছা তার রয়েছে।
প্রতারকরা সাভারের একটি মৌজায় প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি কেনার প্রস্তাব দেন এবং জমিটি পরে বিক্রি করে বড় লাভের প্রলোভন দেখান। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভুক্তভোগীর সামনেই কথিত জমির মালিককে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিনয় করা হয়। এরপর জমি কেনার বায়না হিসেবে দশ লাখ টাকা দাবি করা হলে ভুক্তভোগী ব্যাংক ও বাসা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা পরিশোধ করেন। এরপর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করার নাম করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়, তবে মূল কপি দেওয়ার কথা বলে আরও বিশ লাখ টাকা দাবি করা হয়, যা তিনিও পরিশোধ করেন। এভাবে মোট ত্রিশ লাখ টাকা নেওয়ার পরও চক্রটি বায়নাপত্র হস্তান্তর না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে।
পিবিআই কর্মকর্তা জানান, চক্রটি ভুক্তভোগীকে বিশ্বাস করাতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেছিল—কখনো সচিবের অফিসে যাওয়ার কথা বলে, কখনো ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে, আবার কখনো কথিত জমির মালিকের অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি থাকার মিথ্যা গল্প সাজিয়ে। এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ভুয়া স্ট্যাম্প ও ভুয়া আইনজীবীর প্রসঙ্গও তারা কাজে লাগিয়েছিল।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পিবিআই কার্যালয়ে অভিযোগ জানান, এরপর তদন্ত শুরু হয়। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর প্রথমে কথিত জমির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে কথিত সচিব এবং দালালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করে ত্রিশ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তের সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত ভুয়া বায়নাপত্রের স্ট্যাম্প, ফোন কথোপকথনের রেকর্ড এবং সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা জনস্বার্থে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর নিজ উদ্যোগে তদন্ত করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে।

