চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহজনক একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটিতে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাকজাত বা তামাকসদৃশ পণ্য এবং বিভিন্ন রঙের গুঁড়াজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে।
সিআইআইডির তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের মিল না থাকায় শারীরিক পরীক্ষার সময় এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
হাউস বিল অব লেডিং নম্বর ISLCCU2627CGP095-এর মাধ্যমে আনা চালানে পণ্য হিসেবে ‘পান মসলা ও জর্দা’ উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে ৪৭৩টি প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরীক্ষার সময় ৪৭০টি প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ উপাদান পাওয়া যায়।
সিআইআইডি জানায়, উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি গাঢ় বাদামি রঙের উপাদান, ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি বাদামি উপাদান, ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি ধূসর উপাদান এবং ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সাদা উপাদান ছিল।
কিছু গুঁড়াজাতীয় পদার্থ দেখতে মাদকজাতীয় উপাদানের মতো মনে হলেও পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণের পর এর প্রকৃত উপাদান নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।
এ ছাড়া একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের অধীনে আরেকটি চালানেও গরমিল পাওয়া গেছে। ওই চালানে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা দিয়ে ১ হাজার ৫৭০টি প্যাকেজে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬ কেজি পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
শারীরিক পরীক্ষায় সেখানে ১ হাজার ৫৭০টি প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি সন্দেহজনক কাগজের বর্জ্য পাওয়া যায়।
দুটি চালান মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন ছিল তামাক বা তামাকসদৃশ উপাদান এবং সন্দেহজনক গুঁড়া, আর প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন ছিল সন্দেহজনক কাগজের বর্জ্য।
সিআইআইডি জানায়, কলকাতা থেকে এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস জাহাজে করে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা ছেড়ে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
চালানটির আমদানিকারক হিসেবে কাস্টমস নথিতে ‘অথয় এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে কিছু জানেন না এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কোনো অসাধু চক্র তার প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পণ্য আনার চেষ্টা করেছে।
সিআইআইডি এখন পণ্যের ঘোষণায় গরমিল, ব্যবসায়িক পরিচয় ব্যবহারের বিষয় এবং প্রকৃত পণ্যের ধরন নিয়ে তদন্ত করছে। পরীক্ষাগারের ফলাফল ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

