চাঁদাবাজি, দখল, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দলীয় পরিচয় বা কোনো ধরনের প্রভাব বিবেচনা না করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।
মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অপরাধে যুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয়, পদ বা কোনো ধরনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া যাবে না।
পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় জমি নিয়ে বিরোধ ও দখল-পাল্টা দখলের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ এলে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে প্রণীত এই আইনের উদ্দেশ্য হলো নাগরিক, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জমির অধিকার রক্ষা এবং জালিয়াতি ও অবৈধ দখল প্রতিরোধ করা।
আইনে অন্যের জমিকে নিজের বলে প্রচার করা, মালিকানার তথ্য গোপন করে সম্পত্তি হস্তান্তর, ভুয়া দলিল তৈরি এবং বৈধ মালিককে উচ্ছেদের চেষ্টার মতো বিষয়গুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এসব ঘটনায় সরাসরি থানায় মামলা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কুইক রেসপন্স টিমের (কিউআরটি) কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, বিশেষ বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে এসব দল কাজ করবে।কোথাও পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য এসব টিম প্রস্তুত থাকবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দখল, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা জেলা ও মহানগরভিত্তিক তৈরি করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তালিকায় তা যুক্ত করা হচ্ছে।
সভায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এসব গোষ্ঠীর পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠন রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. সায়েদুর রহমান পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং মাঠ পর্যায়ের সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

