একসময় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা মূলত বড় শহর ও মহানগরকেন্দ্রিক ছিল। এখন সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ছে কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধ। হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র থেকে শুরু করে সাইবার অপরাধ ও যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন কিশোর গোষ্ঠীর সদস্যরা।
পুলিশের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। দেশের আটটি মহানগর এবং ৬৪ জেলাতেই বিভিন্ন কিশোর গ্যাং ও তাদের সদস্যদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব কিশোর দলবদ্ধভাবে অপরাধে জড়াচ্ছে। তবে ঘটনাগুলোর পেছনে শুধু কিশোরদের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন তদন্ত ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বড় অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।
অর্থাৎ সমস্যাটি কেবল কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ, যেখানে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী ছেলেদের ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ উঠছে। কিশোরদের সামনে রেখে অপরাধ সংঘটিত হলে তাদের বয়স ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রামের খুলশীতে সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ড এই বাস্তবতার একটি উদাহরণ সামনে এনেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামে দুটি কিশোর গোষ্ঠীর বিরোধের জেরে হৃদয় নামের এক কিশোর নিহত হয়। হৃদয় তাঁর বাবার সঙ্গে ভ্যানগাড়িতে করে ওই এলাকায় সবজি বিক্রি করত। ঘটনার পর ছয় কিশোরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘সেভেন স্টার’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং নিহত হৃদয় ছিল ‘ফাইভ স্টার’ গোষ্ঠীর সদস্য।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। কিন্তু তদন্তে কেবল কিশোরদের পারস্পরিক বিরোধই নয়, তাদের পেছনে থাকা কথিত বড়দের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘সেভেন স্টার’ পরিচালনার সঙ্গে ওয়াকিল হোসেন বগা ও তাঁর ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম পিচ্চির নাম এসেছে। অন্যদিকে ‘ফাইভ স্টার’ পরিচালনায় স্থানীয় বিজয়, কামরান ও শান্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে। গত জুনে সরকারি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় তাঁকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে স্থানীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার একটি হত্যাকাণ্ডও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা এবং তাঁর লাশ গুমের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন। পরে দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কিশোরেরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে তথ্য সংগ্রহে নামে পুলিশ সদর দপ্তর। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ৪২৪টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আটটি পুলিশ রেঞ্জ, আটটি মহানগর এবং রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন এলাকার এসব মামলায় ৩০৭টি কিশোর গ্যাংয়ের ২ হাজার ৬২৫ সদস্যের অপরাধ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এই বিশ্লেষণে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ২৩ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মারামারি, চাঁদাবাজি, চুরি, চুরির চেষ্টা, ডাকাতি, ডাকাতির চেষ্টা, হত্যাচেষ্টা, হত্যা, ছিনতাই, বিস্ফোরকসংক্রান্ত অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, অস্ত্র, সাইবার অপরাধ, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, মাদক এবং যৌন হয়রানি। এ ছাড়া ডিএমপি অধ্যাদেশ, দ্রুত বিচার আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাতেও কিশোরদের আসামি করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ এখন আর শুধু মারামারি বা ছোটখাটো সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অপরাধের ধরন যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি এর ভয়াবহতাও বেড়েছে। সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ করার প্রবণতা তৈরি হওয়ায় একজন কিশোর একা যে অপরাধে জড়াত না, দলগত পরিবেশে সেটিতেও যুক্ত হয়ে পড়তে পারে।
রাজধানীতেও সাম্প্রতিক একটি জমি দখলের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে একটি জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তাকুর রহমান খোকন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির নাম এসেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এখানেই কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে আসে। কিশোররা নিজেরাই কি সব অপরাধের পরিকল্পনাকারী, নাকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সামাজিক ও পারিবারিক কারণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের ব্যবহার করে অপরাধ পরিচালনাকারীদের ভূমিকা শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণা সংস্থা এশিয়ান সোশিও-লিগ্যাল সেন্টার ফর এম্পিরিক্যাল অ্যান্ড ডকট্রিনাল রিসার্চের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলামও কিশোরদের গ্যাং সংস্কৃতিতে নিয়ে যাওয়ার পেছনে কারা কাজ করছে, সেই প্রশ্ন সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বড়দের একটি অংশ যদি আড়ালে থেকে কিশোরদের পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযান বাড়িয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে সারা দেশে ৩ হাজার ৮৪৪ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন কুমিল্লাসহ ১১টি জেলা থেকে দেড় হাজারের বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরেও সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ছয় থানা এলাকা থেকে ৯৯ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে শুধু গ্রেপ্তার করে কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করা কঠিন হতে পারে। কারণ একজন কিশোর কেন অপরাধী গোষ্ঠীতে যুক্ত হচ্ছে, সেই কারণগুলোও চিহ্নিত করা প্রয়োজন। পরিবারে নজরদারির ঘাটতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া, মাদকের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব, সামাজিক পরিবেশ এবং অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব বিষয় কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগের বক্তব্যেও এই সামাজিক দিকটি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু-কিশোর। তাদের একটি অংশ সহজেই অপরাধের শিকার বা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং মাদকের সহজলভ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ কারণে কিশোর গ্যাং মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি কিশোর কখন আচরণগতভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাচ্ছে কি না কিংবা মাদক বা অপরাধী চক্রের সংস্পর্শে আসছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া কিশোরদের দিকেও। স্কুল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া একজন কিশোর দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশে থাকলে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই শুধু অপরাধ করার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের আগেই চিহ্নিত করে তাদের শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার উদ্যোগ প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর হলে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে পারে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ারও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখাও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ও অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির কাজও চালানো হচ্ছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বর্তমান বিস্তার তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা, সমাজ ও অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। কিশোরদের অপরাধের জন্য কেবল তাদের দায়ী করলে সমস্যার একটি অংশই দেখা হবে। তাদের কে ব্যবহার করছে, কোথা থেকে তারা অপরাধের প্রশিক্ষণ বা উৎসাহ পাচ্ছে এবং কেন তারা স্বাভাবিক সামাজিক ও শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অপরাধে জড়িত কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যেসব কিশোর এখনো অপরাধে জড়িয়ে পড়েনি কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে রয়েছে, তাদেরও শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
কারণ কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যায় নির্ধারিত হবে না। অপরাধের নেটওয়ার্ক ভাঙা, কিশোরদের অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে বের করে আনা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় নেওয়া এবং পরিবার ও সমাজের নজরদারি বাড়ানোর মধ্য দিয়েই এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। ছোটদের হাতে অপরাধের অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে কি না, আর সেই ব্যবস্থার পেছনে কারা রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

