রাজধানীর বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণবোমা’ হামলার হুমকি দিয়ে একটি অজ্ঞাত ইমেইল পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে ডিবির সাইবার টিম। তবে পুলিশ বলছে, এটি সম্ভাব্য কোনো গুরুতর হুমকি নয় এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে ‘টপিকেল চাইনিজ ম্যান’ নামের একটি আইডি থেকে ইমেইলটি পাঠানো হয়। এতে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় একাধিক বোমা হামলার কথা বলা হয়েছে।
ইমেইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে উদ্দেশ করে লেখা হয়, ঢাকার প্রগতি সরণির খা ২২৪ নম্বরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে গণবোমা হামলা চালানো হবে। বার্তায় আরও বলা হয়, কেউ এই হামলা থামাতে পারবে না। হামলার সময় হিসেবে আগামীকাল ৬ অক্টোবর বেলা ১১টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হুমকির ইমেইল পাওয়ার পরই ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায়। সবার সহযোগিতা চেয়ে মেইলটি ফরোয়ার্ড করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ ঘটনায় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কেউ ফোন ধরেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁর ভাষ্য, এটি সম্ভাব্য কোনো হুমকি নয়। ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং ডিবির সাইবার টিম বিষয়টি তদন্ত করছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইমেইলের মাধ্যমে এ ধরনের হুমকির ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। এ কারণেই গোয়েন্দা সংস্থা ও সাইবার টিমের সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ইমেইলটি কোথা থেকে, কার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। প্রেরকের পরিচয় শনাক্ত হলেই হুমকির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব স্পষ্ট হবে। হামলার সময় হিসেবে উল্লেখ করা তারিখ ও বার্তার ভাষাতেও কিছুটা অসংগতি রয়েছে। ইমেইলে একদিকে ‘মঙ্গলবার’, অন্যদিকে ‘আগামীকাল ৬ অক্টোবর’ লেখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুলিশ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে বললেও তদন্ত চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার হয় কি না এবং ইমেইল প্রেরককে শনাক্ত করা যায় কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

