চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার নাসিরাবাদে সরকারের নীতি লঙ্ঘন করে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য মজুত রাখার দায়ে এক ফ্লাওয়ার মিলকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ‘ইউনাইটেড ফ্লাওয়ার্স মিল’ নামের ওই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৫০ কেজি (১২০.০৫ টন) অবৈধ লাল গম জব্দ করা হয় এবং খাদ্যশস্য মজুতকারী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে ও অবৈধ অসাধু মজুতদারদের লাগাম টানতে প্রশাসন এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেয় এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জাতীয় খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত এক যৌথ দল। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত গোপন খবরের ওপর ভিত্তি করে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার ওই ফ্লাওয়ার মিলে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে সরকারি তদারকি কিংবা বৈধ খাদ্য মজুদকরণ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি এবং মালামাল বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, জরিমানার অর্থ নগদ আদায় করা হয়েছে এবং জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ লাল গমের ব্যাপারে বিদ্যমান খাদ্য আইনের আওতায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকারি খাদ্যশস্য নিয়ে অননুমোদিত ব্যবসা পরিচালনা, নিয়মবহির্ভূত বাফার স্টক তৈরি এবং অসাধু উপায়ে বাজার অস্থিতিশীল করার মতো যেকোনো অপচেষ্টা বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ তদারকি অভিযান সামনে আরও জোরদার করা হবে।
জাতীয় বাজারে গম, আটা ও ময়দার মূল্য স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে চাল ও গম জাতীয় জরুরি খাদ্যশস্যের যেকোনো বাণিজ্যিক মজুতের ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ও নির্দিষ্ট সীমা ব্যতিরেকে গুদামজাতকরণ সাধারণ ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। চট্টগ্রাম কাস্টমস ও চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক বাজারগুলোতে প্রতিনিয়ত শস্য সরবরাহের সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করার পাশাপাশি এই ধরনের স্থানীয় বাজার তদারকি অভিযান বজায় রাখা হলে অসৎ ব্যবসায়ীদের প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাদ্য ও বাজার বিশেষজ্ঞরা।